| বঙ্গাব্দ

ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত, মার্কিন কূটনীতিক তলব | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-06-2026 ইং
  • 22432 বার পঠিত
ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত, মার্কিন কূটনীতিক তলব | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত

মার্কিন হামলায় ২ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ নয়া দিল্লি: ওমান উপসাগরে তীব্র উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬

ওমান উপকূলে ‘সেত্তেবেল্লো’ নামের একটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন প্রধান প্রকৌশলী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই নিহত দুই ভারতীয় নাবিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন—অদিত্য শর্মা (ডেক ক্যাডেট) এবং শিবানন্দ চৌরাসিয়া (ইঞ্জিন ফিটার)। এছাড়া নিখোঁজ থাকা ওই জাহাজের প্রধান প্রকৌশলীর নাম পাটনালা সুরেশ বলে জানা গেছে। ভারতের ঐতিহ্যবাহী নাবিক সংগঠন ‘ফরোয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া’ (এফএসইউআই)-এর সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদবের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে।

নয়া দিল্লিতে মার্কিন উপপ্রধানকে তলব

নির্দোষ ভারতীয় নাবিকদের নিহতের এই ঘটনায় নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নয়া দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (উপপ্রধান) জেসন মিকসকে জরুরি ভিত্তিতে সাউথ ব্লকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ভারতের জলসীমায় এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে মিত্র দেশের এমন হঠকারী হামলায় নিজেদের নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহিতা চেয়েছে নয়া দিল্লি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: ‘ইরানি তেল’ বহন করছিল জাহাজটি

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সেন্টকম দাবি করেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘সেত্তেবেল্লো’ নামের ওই জাহাজটিতে তাদের দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ‘নির্ভুল ও সফল হামলা’ (Precision Strike) চালানো হয়।

মার্কিন বাহিনীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি মূলত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল এবং ওমান উপসাগরে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর চ্যলেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার নির্দেশ মানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। যার ফলেই এই প্রতিরোধমূলক হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। এরপর ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে জাহাজটি থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি বিপদ সংকেত (SOS) পাঠানো হয়।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) তীব্র নিন্দা

ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। তিনি সাধারণ নাবিকদের জীবন এবং আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে—এমন যেকোনো ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন।

আইএমও মহাসচিব এক বিবৃতিতে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলায় নিহত ও নিখোঁজ ভারতীয় নাবিকদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। যারা এখনো তাদের স্বজনদের খোঁজের অপেক্ষায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁদের পাশে রয়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন ব্লকের মধ্যকার চলমান ছায়াযুদ্ধের জেরে ওমান ও হরমুজ প্রণালীর এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি এখন বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক জোনে পরিণত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকেও নতুন করে অস্থির করে তুলছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency